প্রবালদ্বীপের কাছে

টেকনাফের দমদমিয়া থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজগুলো ছাড়ে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে। জায়গাটি টেকনাফ শহরের বেশ কিছুটা আগেই। এখান থেকে প্রায় ঘণ্টাখানেক নাফ নদী ধরে চলার পর বঙ্গোপসাগরের দেখা মেলে। নাফের একপাশে বাংলাদেশের টেকনাফ, অন্যপাশে মায়ানমার। নদীতে চলতে চলতে দেখা মেলে টেকনাফের আকাশছোঁয়া তৈঙ্গা পাহাড়, যার আরেক নাম নেটং পাহাড়। এ পাহাড়েই বাংলাদেশের গেইম রিজার্ভ, যা নানান বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম।

আরও দেখা মিলবে নাফ নদীর মাঝে আর তীরে জেগে ওঠা প্যারাবন। চোখে পড়বে জেলেদের মাছ ধরা। চলতে চলতে এক সময় শাহপরীর দ্বীপ পাশে রেখে জাহাজ এসে পড়বে সমুদ্রে। নদীর ঘোলাপানি থেকে সমুদ্রের নীল জলে ফেনা তুলে চলতে থাকবে জাহাজ। কোথা থেকে যেন ঝাঁকে ঝাঁকে সিগাল এসে জাহাজের পিছু নেবে।

সাগরজলে ভেসেওঠা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন আর বেশি দূরে নয়। বৈচিত্র্যে ঠাঁসা চিরসবুজ এ দ্বীপের স্থানীয় নাম নারিকেল জিঞ্জিরা।

টেকনাফ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সমুদ্রগর্ভে এই দ্বীপের অবস্থান। প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ এ দ্বীপের আকর্ষণ সৈকত জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সারিসারি নারিকেল গাছ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার অধিবাসীদের বিচিত্র জীবনযাপন। প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস এই দ্বীপে।

ছোট্ট এই দ্বীপের একেকটি জায়গার বৈচিত্র্য একেক রকম। উত্তর থেকে দক্ষিণে, পুব থেকে পশ্চিমে একেবারে ভিন্নতর বৈচিত্র্যে ভরা।

উত্তরের সৈকতে জোয়ারভাটায় সংগ্রামী জেলেদের মাছ ধরা, পুবের সৈকতে সারিসারি নারিকেল বীথি। পশ্চিমে আর দক্ষিণে প্রবালমেলার সঙ্গে নীলসমুদ্রের হাতছানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>